বর্গভীমা

বর্গভীমা বা ভীমরূপা মাতা বঙ্গদেশের তাম্রলিপ্ত জনপদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তিনি হলেন কালী মতান্তরে উগ্রতারা। তিনি পশ্চিমবঙ্গের তথা প্রাচীন বঙ্গদেশের ঐতিহাসিক বন্দরশহর তাম্রলিপ্ত শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। অনুমান করা হয়, পৌরাণিক তাম্রলিপ্ত জনপদ প্রতিষ্ঠার পূর্ব থেকেই তাঁর মন্দির এই স্থানে প্রতিষ্ঠিত। ভারতের অন্যতম জাগ্রত ও প্রধান শক্তিপীঠ। পীঠ নির্ণায়ক তত্ত্ব অনুযায়ী এটি ৫১ পীঠের প্রথম পীঠ। যা প্রাচীন ধ্রুপদী বাংলা মাতৃকা উপাসনা ও শক্তি আরাধনার চিহ্ন বহন করছে। শাক্ত ঐতিহ্যের কারণে মেদিনীপুর জেলার অনেক বিপ্লবী এখানে শপথ নিয়েছিলেন যে তারা ধর্মের পথে চলবেন এবং সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে মাতৃভূমিকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করবেন। ভারতের বিখ্যাত বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু এখানে পূজা করতে আসতেন। স্থানীয় লোকেরা এই মন্দিরে দুর্গাপূজা, বাংলা নববর্ষ এবং কালী পূজা উপলক্ষে বিশাল উৎসব উদ্‌যাপন করে। এই মন্দিরে প্রসাদ দেবীর জন্য প্রতিদিন প্রস্তুত হয় এবং বেশিরভাগ শক্তি মন্দিরের মতো দেবীর প্রসাদও নিরামিষ হয় না। দেবীর প্রসাদ হিসেবে এখানে শোল মাছ রান্না বাধ্যতামূলক। বলির আচারটি এখন বাতিল করা হলেও বছরে একবারে এখনও তা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *